তানভীর হাসান সৌরভঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ’র খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ফ্যাসিস্ট’র দোসরদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে দলীয় টেন্ড থেকে এ মিছিল শুরু হয়। ক্যাম্পাস্থ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হন তারা।
এসময় ইবি ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ ও সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুনের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য রাশেদুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক আনারুল ইসলাম, আহসান হাবিব, সদস্য রাফিজ আহমেদ, নূর উদ্দিন, রাকিব হাসান সাক্ষর, মুকতাদির রহমান, উল্লাস মাহমুদ, রোকনুজ্জামান, আবু সাইদ রনি, তাপস কুমার, আব্দুল্লাহ আল নোমান, রায়হান ইসলাম, মেহেদী হাসান, আলামিন, শামসুজ্জামান সায়েম, সাইফুল্লাহ মামুন, ওয়াশিকুর রহমান, মুফতাঈন আহম্মেদ সাবিক, রিয়াজ উদ্দিন, হাফিজুর রহমান, এনামুল হক ইমন, মির্জা শাহরিয়ার, আজহারুল ইসলাম রিপন, তাহের, ফজলে রাব্বি, ইফতেহার, শাহরিয়ার রিফাত, নিয়ল, আলিনুর রহমান, নয়ন, সাগর আলী, জিম প্রমূখ।
ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, অনতিবিলম্বে সাজিদ হত্যার বিচার করতে হবে। ফ্যাসিস্টের দোসরদের চাকরি থেকে বহিাষ্কার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, সাজিদ হত্যার খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। কুষ্টিয়ার এসপি ও ইবি থানার ওসির সাথে কথা বলেছি সাজিদ হত্যার খুনিদের দ্রুত বিচারের জন্য। আমাদের তাদের প্রতি দাবি আপনারা দ্রুত খুনিদের বিচার করুন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা -কর্মচারী সকলেই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে। শিক্ষার্থীদের ভিতর ভয় কাজ করে কখন কে জানি কাকে মেরে ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, ইবি ক্যাম্পাস যেন নিরাপদ ক্যাম্পাস হয়। নিরাপদ ক্যাম্পাসের জন্য পর্যাপ্ত লাইট, সিকিউরিটি গার্ড ও পুলিশের টহল নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দ্রুত শাস্তির নিশ্চিত করতে হবে। ৫ আগস্টের আগে তারা যে নির্যাতন করছে তা আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, এক মাস দশ দিন হয়ে গেল এই সাজিদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হয়নি। কারা, কেন, কিভাবে হত্যা করলো প্রশাসন এখনো আইডেন্ডিফাই করতে পারেনি। ফ্যাসিবাদী আমলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইটে ফিটনেসবিহীন গাড়ি দিয়ে এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছিলো। তখন ওই গাড়ির ড্রাইভার-মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের নামে মামলা দেয়। বিগত প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় লালন শাহ হলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের বের করে লুটপাট করেছিলো। এখন পর্যন্ত সেগুলোর বিচার প্রশাসন করে নাই। বর্তমান প্রশাসন যদি বিগত ১৭ বছরের ঔ ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের মতো হয় তাহলে মনে রাখবেন আপনাদের পরিণতিও তাদের মতো হবে।
তিনি আরও বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নাই, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলে। মহাসড়কের যে বেহাল দশা তাতে শিক্ষার্থীরা আহত হয়ে প্রতিনিয়ত হাসপাতালে যায়। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা রাম রাজত্ব কায়েম করেছিলো প্রশাসন এখনো তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনেনি। আমরা পত্রিকায় দেখতে পেয়েছি ১৯ জন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু এই ১৯ জন নয় আরও অনেক শিক্ষক আছে, যখন ছাত্রলীগ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরূদ্ধে মামলা দিয়েছে, হামলা করেছে, আপনারা তার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। এ সমস্ত শিক্ষকরা এখনো প্রশাসনে চাকরি করলে আমাদের জন্য লজ্জা হয়।
Leave a Reply